স্টাফ রিপোর্টার : পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় বেড়িবাঁধ না থাকায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের ৬০ হাজার মানুষ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন যাপন করছেন। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ যে কোন দুর্যোগের আঘাতে চরাঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানির আশংকা করা হচ্ছে। জানা যায়, চরগজারিয়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। এ চরটি জেলার
রামগতি উপজেলার মূল ভূ-খন্ড থেকে ১৫ কিলোমিটার প্রশস্তের মেঘনা নদী বেষ্টিত দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন। এ চরে ৯’শ পরিবারের জন্য আশ্রয়যোগ্য করে সরকারিভাবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আশ্রায়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সমূহ ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ার থেকে রা পাওয়ার জন্য চরটির চার পাশে নেই কোন বেড়িবাঁধ। ওই চরে কয়েক হাজার গবাদি পশু থাকলেও সেগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার জন্য কোন কিল্লা বা মাটির ঢিবি নেই। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সুনামিসহ যে কোন দুর্যোগের সময প্রশস্ত মেঘনা পাড়ি দিয়ে মূল ভুখন্ডে আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসাও ঝুঁকিপূর্ণ। এতে বসবাসকারি চরের হাজার হাজার লোকজনকে ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আতংকগ্রস্ত থাকতে হচ্ছে। ‘বয়ারচর’ রামগতি উপজেলার আরেকটি দুর্গম এলাকা। প্রায় ১’শ বর্গকিলোমিটার বি¯তৃত চরটিতেও প্রায় ৩০ হাজার লোক বসবাস করছে। চরের পূর্ব দিকে মেঘনা নদীর সন্ধীপ চ্যানেল, পশ্চিম দিকে শাহবাজপুর (দৌলতখাঁন তৌজুমদ্দিন ও মনপুরা) চ্যানেল এবং দণি দিকে হাতিয়া চ্যানেল দিয়ে ঘেরা। দুর্গম চর এলাকার মানুষ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে আশ্রয় নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, কিল্লা কিংবা শিা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়নি। কমলনগরের চরফলকন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এএনএম আশরাফ উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল রায় পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রত্যহ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে থাকে। মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের সময় প্রায়ই এলাকা জলমগ্ন হয়ে ওঠে। এতে ব্যাপক ফসলহানিসহ জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোয় বিচ্ছিন্ন বেড়িবাঁধ পূণঃস্থাপন এবং প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি করেন। 