আলী হোসেন : লক্ষ্মীপুর পৌরসভার অন্যতম একটি গ্রাম বাঞ্চানগর। বাঞ্চানগর গ্রামের অংশ হিসেবে পরিচিত শাঁখাড়ীপাড়া । আগে এই এলাকার মানুষের অন্যতম পেশা ছিল হিন্দু গৃহবধুদের ব্যবহৃত হাতের শাঁখা তৈরী এবং বিক্রি। একসময় এই পেশার নামানুসারে পাড়াটির নাম করণ করা হয় শাঁখাড়ীপাড়া। দিন আসে দিন যায়, তবুও থেকে যায় মানুষের রেখে যাওয়া স্মৃতি। ঐতিহ্যবাহী শাঁখা তৈরীর কারীগররা এখন না থাকলেও মুছে যায়নি তাদের দেয়া নাম। হিন্দুদের মন্দির ও মহাশ্মশান থাকার কারণে হিন্দুদের বসতই এখানে অধিক। অতীতে পাড়াটি ভদ্রপাড়া হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও বর্তমানে তা মুছে গেছে। স্থানীয় কিছু বখাটে, নেশাখোর, মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়ীদের অভয়ারণ্য খ্যাতি লাভ করেছে শাঁখাড়ীপাড়া। জুয়াড়ী ও নেশাখোরদের অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে অতিষ্ট এলাকাবাসি। স্থানীয়রা কোথাও নিজের পাড়া হিসেবে শাঁখাড়ীপাড়া নাম উচ্চারণ করতে লজ্জাবোধ করে থাকে। স্থানীয় থানায় বহুবার অভিযোগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। মাদকদ্রব্যের প্রাপ্তি এলাকায় সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর ও যুবসমাজ আক্রান্ত হয়ে পড়েছে নেশা নামক এই ভয়ঙ্কর ব্যাধিতে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এলাকার ত্রাস ও সকল কু-কর্মের যারা হোতা তারা এলাকার উন্নয়ন কাজে না থাকলেও আগ বাড়িয়ে নিজের কু-কর্মের প্রতিভা দেখিয়ে কাজ পন্ড করার চেষ্টা করে। যেমনটি বলা চলে ‘গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’। যাদের সুক্ষ্ম তদারকিতে জিম্মি গোটা এলাকাবাসি। উপর থেকে দেখতে মাকাল ফলের মত সুন্দর হলেও ভিতরে কালো। এলাকার এই চক্রটি শুধু মাদক নিয়ে ্যান্ত নয়। তারা মানুষের পারিবারিক বিষয়ে বিরোধ দেখলে হাত বাড়িয়ে এক সালিশী বৈঠকের আয়োজন করে। পরে রাতের আঁধারে দু’পরে কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্মশানের মত পবিত্র স্থানটি দখল করে নিয়েছে জুয়াড়ী আর নেশাখোররা। দুপুরের পরই মহাশ্মশানের চারপাশ ঘিরে শুরু হয় তাস-জুয়া আর নেশার আসর। ছোট ছোট ভাগে জড় হয়ে গাঁজা, বাংলামদ, ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন ও জুয়া খেলায় মেতে উঠে তারা। এসব কার্যকলাপে ওই এলাকার যুবতী মেয়েদের স্বাধীন ভাবে চলা ফেরা ব্যহত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের আসরের পার্শ্বে বসবাসরত এক বৃদ্ধা জানান, এসব নেশা খোরদের কার্যকলাপে ছোট ছোট নাতী-নাতনীদেরকে ঘরে রাখতে ভয় হয় তাই সারাদিন প্রাইভেটে ব্যস্ত রাখি। তবুও বাংলামদ আর গাঁজার গন্ধে ঘরে থাকা যায় না। লক্ষ্মীপুর পৌর সভার মেয়র আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের সম্প্রতি স্থানীয় এক ধর্মীয় আলোচনায় এসব নেশাখোর ও জুয়াড়ীদের আড্ডাখানা নিষিদ্ধ করার আশ্বাস দিলে কিছু দিন গা’ ঢাকা দিয়ে থাকে এ চক্রটি। ইদানিং আবার ওই চক্রটি মাথাঝাড়া দিয়ে উঠেছে। কবে বন্ধ হবে এসব জুয়ার আড্ডাখানা, কবে থামবে মাদক সেবন আর মাদক বিক্রি। মাদকের স্বর্গরাজ্য নাম থেকে মুক্তি পাবে ভদ্রপাড়া নামের এই শাঁখাড়ীপাড়া ? জনমনে আজ একটাই দাবি। শাঁখাড়ীপাড়ার এই চক্রটিকে কঠিন হস্তে দমন করবে লক্ষ্মীপুর পৌরসভাসহ স্থানীয় প্রশাসন। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তপে কামনা করেছেন এলাকাবাসি।
